বশিকরণ

মহিলা/স্ত্রী/নারী/মেয়ে বশীকরণ#লোক/পূরুষ/মানুষ্য বশীকরণ বা বাধ্য করা

মহিলা/স্ত্রী/নারী/মেয়ে বশীকরণ#লোক/পূরুষ/মানুষ্য বশীকরণ বা বাধ্য করা বিষয়ে মন্ত্রগুরু ডট অর্গের সংরক্ষিত পোস্ট—এখানে মূল লেখা অক্ষত রেখে প্রেক্ষাপট, ব্যবহারবিধি ও সতর্কতা যুক্ত করা হয়েছে।

মহিলা/স্ত্রী/নারী/মেয়ে বশীকরণ#লোক/পূরুষ/মানুষ্য বশীকরণ বা বাধ্য করা

মূল মন্ত্র/দোয়া

মূল মন্ত্র/দোয়া/আমল অংশ মূল পোস্টের সংরক্ষিত অংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা

বশীকরণ বা আকর্ষণ-সংক্রান্ত লেখা আমাদের লোকজ, তান্ত্রিক ও আধ্যাত্মিক সাহিত্যে বহুদিন ধরে আলোচিত। আধুনিক নৈতিক মানদণ্ডে এই বিষয়গুলোকে অন্যের স্বাধীন ইচ্ছা, সম্মতি, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সম্পর্কের সততার আলোকে পড়া সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদ্ধতি।

এই সংস্করণে পুরোনো পোস্টের মূল অংশ সংরক্ষণ করা হয়েছে। মন্ত্র, দোয়া, আমল বা তান্ত্রিক অংশের মূল ভাষা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা হয়নি; শুধু পাঠকের সুবিধার জন্য প্রেক্ষাপট, ব্যবহারবিধি, সতর্কতা ও ভাষাগত উপস্থাপনা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সাজানো হয়েছে।

পাঠ-পূর্ব প্রেক্ষাপট

মন্ত্রগুরু ডট অর্গ ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের জন্য তন্ত্র, মন্ত্র, দোয়া, আধ্যাত্মিক অনুশীলন ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কনটেন্ট সংরক্ষণ করে আসছে। এই লেখাটি সেই আর্কাইভের অংশ; তাই একে লোকজ বিশ্বাস, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ব্যক্তিগত অনুশীলন এবং আধুনিক সতর্কতার সমন্বয়ে পড়া উচিত।

ব্যবহারবিধি ও দায়িত্বশীলতা

  1. অন্যের স্বাধীন ইচ্ছা বা সম্মতির বিরুদ্ধে কোনো প্রয়োগ করবেন না।
  2. সম্পর্কে প্রতারণা, জোরজবরদস্তি বা ক্ষতিকর উদ্দেশ্য এড়িয়ে চলুন।
  3. নিজেকে উন্নত করা, আত্মবিশ্বাস ও সম্পর্কের সততা—এসবকে অগ্রাধিকার দিন।

মূল পোস্টের সংরক্ষিত অংশ


আমরা আজ আমাদের সার্বজনিন কিছু ভুল নিয়ে আলোচনা করবো। সাধারনত তান্ত্রিক বিষয়ে আমরা সচারাচর যে ভুল গুলো করে থাকি-
আমরা অনেকেই জীবনের কোন এক সময় এসে আমাদের চিরচেনা খুব কাছের খুব আপন, খুব’ই গুরুত্বপূর্ণ মানুষটাকে অকারনেই হটাৎ বদলে যেতে দেখি বা অন্যের সাথে ঘনিষ্ট হতে দেখি বা নিজের কাছ থেকে দুরে সরে যেতে দেখি যা আমাদের হৃদয়কে আন্দলিত করে, কখনো কখনো হৃদয়কে ক্ষত বিক্ষত চূর্ন বিচূর্ণ করে দেয়। আমাদের বেচে থাকার অর্থ’ই শেষ করে দেয়। কোন ভাবেই তাকে ফেরাতে পারি না, তাকে বোঝাতে পারি না, তাকে পূর্বের ন্যায় ভালোবাসায় জরাতে পারি না। হটাৎ করেই যেনো চিরচেনা মানুষটা একদম অপরিচিত হয়ে যায়। এমন সময় খুব সাধারন ভাবেই আমাদরে মেধা শূন্য হয়ে যায়, এবং তাকে ফিরে পাবার জন্য ব্যকুল হয়ে উঠি, যে কোন মূল্যেই তাকে ফিরে পেতে চাই, কাছে পেতে চাই। দ্বিক-বিদ্বীক জ্ঞানশুন্য হয়ে যাই। আর এই আমাদের মাথায় আসে তান্ত্রিকদের কথা, বশিকরণের কথা, আকর্ষন, বশ করা বা বাধ্য করার কথা। তখন আমরা বন্ধু মহলে বা এলাকার কিছু চতুর মানুষদের সাথে আলাপ চারিতার মাধ্যমে জানতে চেষ্টা করি কে বা কারা এই সকল তান্ত্রিক কাজের সাথে জরিত। অনেকেই অনলাইনে বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়ায় সার্চ করা শুরু করি। মনে পরে যায় পথে ঘাটে বিভিন্ন লিফলেট বা ২৪ ঘন্টায় মুশকিল আসান সাইন বোর্ড ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে শতকরা আমরা ৯৯% ভুল করি সঠিক তান্ত্রিক চিনতে। কারন বর্তমান সময়ে আমাদের আসে পাসে যেমন হাজারো ভূইফোড় জিন হুজুর, জীন মাতা, কালি সাধকের অবির্ভাব তেমনি অনলাইনেও টোকাই শ্রেনীর নষ্টবুদ্ধির অল্প বয়ষ্ক ছেলেদের দ্বারা তৈরী ফেইসবুক বা ব্লগার তান্ত্রিকের ছরাছরি। বিশেষ করে এ্যন্ড্রোয়েড মোবাইল যারা ব্যবহার করে তারা নিশ্চয় মোবাইল এ্যাপ ও ভিডিও ডাউনলোড করতে এমন হাজারো হাইব্রিড তান্ত্রিকের এ্যড বা পেইজ দেখেই থাকবে। আমরা ইতিপূর্বেই ফেইক তান্ত্রিক পেইজ বা সাইট চেনার বেশ কয়েকটি পোষ্ট করেছি। আজ এ বিষয় আলোচনা নয়, আজকের আলোচনা যারা সত্যিকারের তান্ত্রিকের স্বরনাপন্য হয়েও ফল পেতে বিলম্ব হচ্ছে তাদের বিষয় নিয়ে।
দেখুন সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে আপনার সমস্যাটি নিজেই বা তান্ত্রিক মহোদয়কে দিয়ে সঠিক ভাবে বিশ্লেষন করুন। কারন যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আপনার সম্পর্কের অবনতির কারন খুজে বের করতে না পারবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি সঠিক ভাবে তার তদবীরও করতে পারবেন না। মনে রাখুন তান্ত্রিকতা এক প্রকার চিকিৎসা ব্যবস্থা যাকে আপনি আধ্যাত্মিক চিকিৎসা বা মনচিকিৎসাও বলতে পারেন। সুতারাং কোন রোগের চিকিৎসার জন্য যেমন সর্বপ্রথম বিভিন্ন পরিক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে সমস্যার মূল খুজে বের করতে হয়, তেমনি এই তান্ত্রিকতার ক্ষেত্রেও আপনাকে সর্বপ্রথম সমস্যার মূল খুজে বের করতে হবে। সমস্যার মূল খুজে না পেলে আপনার সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। যেমনটা প্যারাসিটামল টেবলেটে সব ধরনের জ্বর ভালো হয় না। তেমনি বশিকরণ তদবীর করলেই যে একজনকে বশিকরণ করতে পারবেন সেটা ভাবা মূর্খতা। পৃথিবীতে প্রায় ৭৩ হাজারের মত বশিকরণ মন্ত্র/দোওয়া তাবিজ রয়েছে, এই সকল কিছুই বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে সৃষ্টি। বিভিন্ন জাতের বিভিন্ন ধরনের মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রকার তন্ত্র। একটি ছেলে বা একটি মেয়ে কেমন, তার আচরণ কেমন, তার স্বভাব কেমন, তার ভালো লাগা, মন্দ লাগা, তার পূর্বশুরীরা কোন চরিত্রের/ তার বর্তমান কোন নতুন সঙ্গী রয়েছে কি না, তার জন্ম তারিখ কি, তার উপর পূর্বেকার কোন তদবীর চলমান কি না, বর্তমানে তার উপর কোন ভিন্ন ধর্মি তদবীর চলছে কি না, তার পূর্বের কোন পছন্দের মানুষ আছে কি না। ইত্যাদি নানা বিষয় অনুসন্ধান করতে হয়। আর যদি যিনি তদবীর করাতে এসেছে তার দ্বারা এই সকল কিছু অনুসন্ধান করা সম্ভব না হয় তবে অবশ্যই তান্ত্রিক মহোদয়কে দিয়ে এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করে বের করতে হবে। তবেই একজন নারী/স্ত্রী বা পূরুষকে সহযেই বশিকরণ করা সম্ভব। নতুবা আপনার সময়, শ্রম, অর্থ সবকিছুই জলে ডুববে। আর একটি কথা আপনার তান্ত্রিক যদি আপনাকে এটি বলে যে তার কাছে জীন বা পরী আছে তার মাধ্যমে সে সবকিছুই যেনে যাবে সমস্যা নেই ২৪ ঘন্টা বা ৭ দিনে আপনার আকাঙ্খীত ব্যক্তিকে সে আপনার কাছে এনে দিবে। তবে আমাদের পরামর্শ থাকবে সেই সকল তান্ত্রিক হতে শতহাত দুরে থাকুন। কারন এই শ্রেনীর ভন্ডরাই আমাদের মাঝে তান্ত্রিক সম্প্রদায়ের কলঙ্ক লেপে দিচ্ছে। একটু ভাবুন তো------ ছোট বেলায় আলিফ লায়লা দেখেছেন নিশ্চয় ??? আলাদিনের নিকট হাজার টা নয়, একটি মাত্র জীন ছিলো তাতেই সে একটি রাজ্যের মালিক ও রাজ কন্যাকে বিয়ে করে সুখি হয়। তাহলে এই জীন পালক তান্ত্রিক কেনো আপনার কাজ করে পয়সা নিচ্ছে। সেতো কোটি কোটি টাকা জীনের মাধ্যমেই আনতে পারতো বা কোথায় মাটির নিচে কোষ্টি পাথর রয়েছে তা খুজে বের করতে পারতো। নিজে ভাবুন অন্যকেও ভাবতে উৎসাহিত করুন। মনে রাখবেন তান্ত্রিকতা একটি আধ্যাত্মিক চিকিৎসা পদ্ধতী মাত্র, এরদ্বারা অনেক অসাধ্য সাধন সম্ভব তবে এমন কিছু ভাববেন না যা ভন্ডরা আপনাকে ডুবিয়ে ভাবায়।।

সতর্কতা ও সীমাবদ্ধতা

এই কনটেন্ট আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। কোনো চিকিৎসা, আইনগত সিদ্ধান্ত, আর্থিক সিদ্ধান্ত বা জরুরি নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। অন্যের ক্ষতি, জোরজবরদস্তি, প্রতারণা বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে কোনো আধ্যাত্মিক অনুশীলন ব্যবহার করা অনৈতিক।

সম্পাদনা-সহায়ক তথ্যসূত্র

ব্যবহার বিধি ও সতর্কতা

- অন্যের স্বাধীন ইচ্ছা বা সম্মতির বিরুদ্ধে কোনো প্রয়োগ করবেন না।
- সম্পর্কে প্রতারণা, জোরজবরদস্তি বা ক্ষতিকর উদ্দেশ্য এড়িয়ে চলুন।
- নিজেকে উন্নত করা, আত্মবিশ্বাস ও সম্পর্কের সততা—এসবকে অগ্রাধিকার দিন।